যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীকে ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দিয়ে ইরানের পার্লামেন্ট একটি বিল পাশ করেছে।
গতকাল মঙ্গলবার (২৩ এপ্রিল) তেহরানের ২৯০ আসন বিশিষ্ট পার্লামেন্টে আয়োজিত অধিবেশনে উপস্থিত ২১৫ জন আইন প্রণেতাদের মধ্যে মোট ১৭৩ জন সরকারের নতুন এই বিলের পক্ষে ভোট দেন। ভোটের প্রেক্ষিতেই মার্কিন সেনাদের বিরুদ্ধে এই বিলটি পাশ করা হয়।
সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা জানায়, ইরানকে চাপে ফেলতে তেহরান থেকে তেল না কেনার জন্য অন্য দেশগুলোকে আদেশ দেয় ওয়াশিংটন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণার একদিন পরেই মঙ্গলবার ইরানের পার্লামেন্ট যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীকে ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দিল।
অপর দিকে চলতি মাসে ৮ এপ্রিল ইরানের ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) তথা বিপ্লবী গার্ডকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র।
গত সোমবার ট্রাম্প ঘোষণা করেন, ইরান থেকে যে সব দেশ তেল কিনবে তাদের কোনও রকম সাহায্য করবে না যুক্তরাষ্ট্র। ২০১৫ সালের পরমানু চুক্তি লঙ্ঘন করায় গত বছর নভেম্বর মাস থেকে ইরানের ওপর নিষেদ্ধাজ্ঞা জারি করে ট্রাম্প প্রশাসন।
এই নিষেদ্ধাজ্ঞার পর ইরান থেকে তেল আমদানিকারি দেশগুলির অনুরোধে তা ১৮০ দিন পর্যন্ত শিথিল করে মার্কিন প্রশাসন। সেই দিন এবার শেষ হতে চলেছে। ফলে ২ মে’র পর যে সব দেশ ইরান থেকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করবে তাদের আর কোনও রকম সাহায্য করবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেন ট্রাম্প।
এর আগে গত বছরের নভেম্বর মাসে ইরানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত ছয় জাতি পারমানবিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নাম প্রত্যাহার করে নেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পরবর্তীতে তিনি দেশটির জ্বালানি খাতের ওপর ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন।
এদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের তেল বাণিজ্যে ক্ষয়ক্ষতি বন্ধের জন্য যুক্তরাষ্ট্র সরকারের নেওয়া পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেন।
মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনকে অবিলম্বে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নিতে হবে। যদি তা না করে তাহলে আমরা আর কখনোই মারিকনসেনাদের কোনো ধরনের স্বীকৃতি ফিরিয়ে দিব না।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ এম রহমান রুবেল