ব্রেকিংঃ

দৌলতখানে শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে ছাকিনা আদর্শ একাডেমি

বিশেষ প্রতিনিধি ॥
ভোলা জেলার দৌলতখান উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে ছাকিনা আদর্শ একাডেমি। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সুধী মহলে ব্যাপক সুনাম অর্জন করে। উপজেলা সদরের প্রাণ কেন্দ্রে ১৯৯৩ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ছাকিনা আদর্শ একাডেমির শিক্ষকগণ অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। প্রথমে প্রাথমিক পার্যায়ে শুরু হওয়া এ প্রতিষ্ঠানটি ইতোমধ্যে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে রূপ নিয়েছে। নিয়মিত পাঠদান, শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার ফলাফল, সরকারি নিয়ম-শৃঙ্খলা মান্য করায় এবং প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম ও পরিচালনা কমিটির আন্তরিক প্রচেষ্টায় ইতোমধ্যে এ প্রতিষ্ঠানটি এমপিওভুক্ত হয়েছে। আর এতে এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মচারী, অভিভাবক, শিক্ষার্থী, শুভাকাঙ্খীসহ সব মহলই খুশি হয়েছেন। তবে দু’একজন অসাধু ব্যক্তি, শিক্ষাবিদ্বেষী এ প্রতিষ্ঠানটি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই ষড়যন্ত্র চালিয়ে আসছে। এতে স্থানীয় গণমান্য ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা বিষ্মিত ও হতবাক। খবর নিয়ে জানা গেছে, দৌলতখান আবু আবদুল্লাহ সরকারি কলেজের উপাধ্যক্ষ এ কে এম শাহাবুদ্দিন, সহকারী অধ্যাপক মোঃ জিয়াউল মোর্শেদ এবং স্থানীয় কিছু শিক্ষানুরাগীদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় ছাকিনা আদর্শ একাডেমি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে মানুষের মধ্যে শিক্ষার আলো ছড়াতে। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা কমিটি এ প্রচেষ্টা চালিয়ে আসছেন, যা এখনো অব্যাহত রয়েছে। ১৯৯৩ সালে প্রতিষ্ঠিত স্বনামধন্য এ প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠার দুইযুগ পর এমপিওভুক্ত হয়। প্রতিষ্ঠাতাদের নিরলস প্রচেষ্টা এবং প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ মনিরুল ইসলামের দক্ষ পরিচালনায় এ প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে প্রায় নয় শতাধিক শিক্ষার্থী লেখা পড়া করছেন। শুরুতে মাটির ভিটা ও কোনো মতে ছাউনী নিয়ে শুরু হওয়া এ প্রতিষ্ঠানটি আজকের পর্যায়ে পৌঁছাতে প্রতিষ্ঠাতাদের কঠোর পরিশ্রম চালাতে হয়েছে, নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত হয়েছে তিনটি টিনসেট বিল্ডিং এবং একটি টিনের ঘর। মোকাবেলা করতে হয়েছে নানা বাধা। দীর্ঘ পথ অতিক্রমের পর এ প্রতিষ্ঠানটি নিয়ে ষড়যন্ত্র থামেনি। অভিযোগ রয়েছে এ বিদ্যালয়ের প্রাথমিক শাখার খ-কালীন শিক্ষক কাজী জামাল এ প্রতিষ্ঠানটি নিয়ে নানা ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে। তার বাবা প্রতিষ্ঠানের সভাপতির ঘনিষ্ঠ হওয়ার সুবাধে তার-ই অনুরোধে ছেলে কাজী জামালকে প্রাথমিক শাখার খ-কালীন শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেয় পরিচালনা কমিটি। শুরুতে নিয়ম মেনে কাজ করলেও পরবর্তীতে এই প্রতিষ্ঠানটি নিজের নিয়ন্ত্রনে নেয়ার চেষ্টা করে কাজী জামাল। এমপিওভুক্ত হওয়ার পর থেকে তার ষড়যন্ত্র আরও বৃদ্ধি পায়। একের পর এক অসত্য ও কাল্পনিক খবর ছড়াচ্ছে প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। এই প্রতিষ্ঠানের লাখ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। প্রাথমিক শাখার খ-কালীন শিক্ষক হয়েও মাঝে মধ্যে এই প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দাবি করেন কাজী জামাল (যদিও প্রধান শিক্ষক হওয়ার একাডেমিক কোন সনদ তার নাই), কখনো কখনো পরিচয় দেন দায়িত্ব-প্রাপ্ত শিক্ষক হিসেবে। স্কুলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপ-প্রচার সম্পর্কে জানতে চাইলে কাজী জামাল বলেন, এমপিওভুক্ত হওয়ার পর সভাপতি মহোদয়ের কাছে প্রস্তাব করে ছিলাম আমাকে সহ আরও চার জন শিক্ষক নিয়োগ দিতে। তাতে তিনি রাজি না হয়ে আমাকে বলেন, এমপিওভূক্তির আওতায় আসা শিক্ষকদের ২০০৪ সালেই সরকারী বিধিমোতাবেক নিয়োগ দেওয়া হয়েছিলো। বর্তমান ম্যানেজিং কমিটির কোন নিয়োগ দেওয়ার একতিয়ার নেই। কাজী জামাল একেক সময় একেক পরিচয় দেন। এ বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, আমি সিনিয়র শিক্ষক এটা লিখেন। শত শত শিক্ষার্থীদের প্রাণের প্রতিষ্ঠান ছাকিনা আদর্শ একাডেমিকে এমপিওভুক্ত করায় প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপুমনি, শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আলী আজম মুকুলসহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, এ প্রতিষ্ঠানটি এমপিওভুক্তির কারণে এ এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের আশা পূরণ হয়েছে। তিনি বলেন, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শুভাকাঙ্খিদের আন্তরিক সহযোগীতার মাধ্যমে সকল ষড়যন্ত্র উপেক্ষা করে অতীতের ন্যায় শিক্ষা-কার্যক্রম অব্যাহত রেখে দ্বীপ জেলার শিক্ষা বিস্তারে আরো বেশী অবদান রাখা সম্ভব হবে। এই প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটির সভাপতি অধ্যাপক মোঃ জিয়াউল মোর্শেদ বলেন, ২৭ বছর ধরে এ প্রতিষ্ঠানটি নিয়মতান্ত্রিক ভাবে পরিচালনা করে আসছি। ইতোমধ্যে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের আস্থার কেন্দ্রবিন্দুতে রূপান্তরিত হয়েছে এই প্রতিষ্ঠানটি। আমরা নিয়মতান্ত্রিক ভাবে শিক্ষার এই ধারা অব্যাহত রাখতে চাই।