এম রহমান রুবেলঃ
ভোলার শহরের প্রান কেন্দ্রে অবস্থিত সদর রোডস্থ বরিশাল দালানের পাশে ওয়েষ্টার্ন পাড়ায় অর্পিত সম্পত্তি দখলকে কেন্দ্র করে সংখ্যালঘু পরিবারের উপর হামলায় নারী -শিশুসহ ৫জন আহত হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে ১/০২/২০ ইং তারিখ সোমবার দুপুরে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনেন।

প্রত্যক্ষ দর্শীরা জানায়, ভোলার ভূমি অফিসের নাজির ইউসুফ গং সকালে ওয়েষ্টার্ন পাড়ার একটি ভিপি সম্পত্তির দোকান দখল করতে গেলে ঐ ঘরের লাগোয়া হিন্দু পরিবারের সদস্যরা এবং দীপক নাগের দেনাদাররা বাঁধা দেয়, এতে ক্ষুদ্ধ হয়ে ইউসুফ গং এর ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীরা হিন্দু পরিবারের সদস্যদের উপর অতর্কিত ভাবে হামলা করেন।
হামলায় আহত স্বর্ন ব্যবসায়ী বাবুল পোদ্দার জানান, তারা দীর্ঘ ৭০/৮০ বছর যাবৎ এই দোকানে ব্যবসা ও বসবাস করে আসছেন।
কয়েকদিন আগে একজন ব্যবসায়ী দীপক নাগ ঘরটি রেখে ভারত চলে গিলে ভূমি অফিসের নাজির ইউসুফ এই সুযোগে বেনামে এই ঘরটি প্রশাসনের কাছ থেকে সু কৌশলে লীজ নেয়। কিন্তু আইনানুযায়ী তারা পার্শ্ববর্তী এবং দীর্ঘ দিন যাবৎ জন্মসূত্রে এখানকার স্থায়ী বাসিন্দা হিসাবে লীজ পাওয়ার অধিকারী অথচ ইউসুফ বিশেষ ভাবে জেলা প্রশাসনকে ম্যানেজ করে গোপনে জমিটি লীজ নিয়ে নেয়। বাবুল পোদ্দারের ভাই ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি কৃষ্ণ পোদ্দার ইউসুফ গংদের লিজ বাতিল করে তার নামে লিজ প্রদানের জন্য আবেদন করেন, যা এখনো নিষ্পত্তি হয়নি। এমতাবস্তায় ইউসুফ এর লোকজন সন্ত্রাসীদের নিয়ে জোর করে ঘর দখল করতে আসে। বাবুল পোদ্দার বাঁধা দিলে ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাবেক সম্পাদক গিয়াস উদ্দিনের নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা তাকে এবং তার পরিবারের সদস্যদের উপর হামলা চালায়। এতে সে নিজে, তার স্ত্রী নমিতা পোদ্দার, ভাই কৃষ্ণ পোদ্দার, পূত্র সুবির পোদ্দার ও আবির পোদ্দার এবং মেয়েসহ ৫ জন আহত হয়। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনলে ইউসুফ এর সন্ত্রাসীরা চলে যায়। এব্যাপারে বাবুল পোদ্দার ও তার পরিবারের সদস্যরা জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ করলে জেলা প্রশাসক বিষয়টি দেখবেন বলে জানান।জেলা পুজা উৎযাপন কমিটির সভাপতি দুলাল চন্দ্র ঘোষ জানান, তিনি বিষয়টি জেলা প্রশাসককে অবহিত করেছেন এবং সংখ্যা লঘু পরিবারের উপর হামলার বিচার দাবী করেছেন।
উল্লেখ্য প্রায় ২ বছর আগে ঐ ঘরের ব্যবসায়ী দীপক নাগ স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে কয়েক কোটি টাকা নিয়ে ভারতে চলে যায়। যাওয়ার সময় সে চরপাতার জনৈক সেনা সদস্যের স্ত্রীর কাছ থেকে ১৭ লক্ষ টাকা নিয়ে তাকে স্টাম্পে লিখিত ভাবে ঘরের দখল দিয়ে যায়। কিন্তু অন্যান্য পাওনাদাররা তাদের টাকা না পেয়ে ঘরে তালা বদ্ধ করে রাখে। জেলা প্রশাসন মাসুদ আলম সিদ্দিক নিজে ঘটনা স্থলে এসে পাওনাদারদেরকে শান্ত করেন। এসময় সেনা সদস্যের স্ত্রী ঐ নারী আছমা বেগমকে তখন জেলা প্রশাসক ক্ষতিগ্রস্ত হিসাবে ঘরটি লিজ দিবে আস্বস্ত করে বলে আচমা জানায়। এজন্য জেলা প্রশাসকের স্টাফ নাজির ইউসুফ ঐ মহিলার কাছ থেকে নগদ ৩ লক্ষ টাকা ঘুষ নেয় কিন্তু ঐ নারির নামে দোকানটির লিজ দেয়া হয়নি বরং ইউসুফ নিজেই সু কৌশলে তার ভাই তানভিরের নামে ঘরটির ডিসিআর কাটে। স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা বিষয়টি সুষ্ট সমাধানের জন্য জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করেন
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ এম রহমান রুবেল