এম রানা ইসলাম।।
এটা কোন খাল বা নদী না। এটা একটা বাড়ির যাওয়ার দরজা। বাড়িতে যাওয়ার একমাত্র পথ কলাগাছের ভেলার উপর নির্ভর। বোঝাই তো যাচ্ছে কত কষ্টে আছে ভোলা সদর উপজেলার ৩নং পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দারা।
একাধিকবার স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ অনেক জায়গায় দৌড়াদৌড়ি করে কোন প্রতিকার হয়নি। এই এলাকার ভোগান্তিতে থাকা জনগণের মনে হচ্ছে হাওর অঞ্চলে বসবাস করছে তারা । এমনটাই মনে হয় তারা সারাজীবন পানি নিচেই থাকবে।
চেয়ারম্যান-মেম্বার ভোটের সময় এসে বলবে ভোট দাও। ভোটে জিতে আমরা সব করে দেবো কিন্তু ভোট দেওয়া শেষ তাদের দায়িত্ব শেষ। এভাবেই চলছে এই এলাকার অসহায় হতদরিদ্র মানুষগুলোর। এভাবেই বলতে থাকেন ভুক্তভোগী কয়েকজন অসহায় কৃষক।
বেশ কিছুদিন আগে আমি একটা পোস্ট করেছিলাম সদুর চর গ্রামের এই ৫ শ একর ফশলি জমি নিয়ে। এখানে বাপ্তা এবং পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়নের প্রায় দুই হাজারের উপরে কৃষক আছে যাদের একমাত্র সম্বল এই সদুর চর গ্রামের ফসলি জমি। আজ কয়েক বছর যাবৎ অনাবাদী হয়ে রয়েছে এই ফসলি জমি টি। অসহায় হয়ে পড়েছে হাজার হাজার কৃষক। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে এই এলাকার প্রায় ৩ শ ঘর বাড়ির মানুষ। তারা ঘরে যেতে ব্যবহার করতে হচ্ছে কলা গাছের ভেলা, নতুবা বাঁশের সাঁকো। অনেকে আবার কোমর সমান পানির ভিতর দিয়ে হেঁটে হেঁটে যাচ্ছে তাদের থাকার ঘরে। এভাবেই ভোগান্তি পোহাচ্ছেন এলাকাবাসী।
ভোগান্তিতে থাকা এলাকার জনগন বলেন, আমরা আর কতকাল এদিক-সেদিক ছোটাছুটি করব। আর কত জনের কাছে যাবো কারো কাছেই তো এই পানি সরানোর কোন সমাধান পাচ্ছি না। এখন আমরা দিশেহারা হয়ে যাচ্ছি মনে হচ্ছে আর কখনোই আমাদের এই সোনার ফসলি জমি ফিরে পাবোনা। থাকবে পানির নিচে তলিয়ে। একদিকে ফসলি জমি তলিয়ে থাকার দুঃখ, আবার অন্যদিকে পানি বাহিত রোগ বাড়ছে দিনদিন। অপরদিকে সবার বাড়িতে বাড়িতে উঠে পরছে সাপ সহ বিভিন্ন ভয়ানক প্রাণী। রাতে ঘুমাতে পারছে না এলাকার জনগণ। সাপের ভয়ে রাত জেগে পাহারা দিচ্ছে একের পর এক জন। এভাবেই কেটে যাচ্ছে ভোগান্তিতে থাকা এলাকাবাসীর দিন।
এই ফসলি জমির পানি নিষ্কাশনের জন্য তৈরি করা হয়েছে ৬ টি কালর্ভাট। কালভার্ট গুলি হয়তো কারো বাড়ির দরজায় নয়তোবা কারো মাছের ঘেরের ভেতরে দিয়ে বসানো হয়েছে । বন্ধ হয়ে রয়েছে এই কালভাট গুলি। কোনই কাজে আসছে না এই ৬ টি কালর্ভাট। একটি কালভার্ট দিয়ে পানি নামানোর ব্যবস্থা থাকলেও একটি মহল তা বন্ধ করে দেয়। তাতে করে পানিবন্দি হয়ে যায় এই এলাকার শত শত জনগন। এলাকাবাসীর দাবি অতিশীঘ্রই পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হোক। ভোগান্তিতে থাকে এলাকাবাসীরা দাবি করেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও ভোলা জেলার সুযোগ্য জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা, জেলা কৃষি কর্মকর্তা সহ উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ দৃষ্টি দিন এই অসহায় কৃষকদের দিকে।,,
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ এম রহমান রুবেল