ব্রেকিংঃ

প্রানিসম্পদ প্রকল্প পরিচালকের বিরুদ্ধেই অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ।।

তানভীর আহমেদ

দৌলতখান প্রতিনিধি।। জেলায় প্রক্রিয়াধিন প্রানিসম্পদ মন্ত্রনালয় কর্তৃক উন্নয়ন প্রকল্পে বরাদ্দকৃত সরকারের ৯৫ কোটি টাকার কাজ বাস্তবায়নে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে খোদ প্রকল্প পরিচালকের বিরুদ্ধে এমনকি তিনি অর্থ নয় ছয় এর সাথে জড়িত বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সারা দেশে উপকূলিয় চরাঞ্চালে স্বমন্নিত প্রানি সম্পদ উন্নয়ন প্রকল্প নামে হত দরিদ্র জনগোষ্টিকে স্বভলম্বি করতে প্রকল্প হাতে নেয় সরকার।
সেই লক্ষে ২০১৯ বিশ অর্থবছরে সারা দেশে ১৬ টি উপজেলায় এই প্রকল্পের কাজ শুরু হয় এবং উক্ত প্রকল্পটির পরিচালক নিযুক্ত হন ডাঃ নিতাই চন্দ্র দাস। মোটা অংকের কাজ হাতে পেয়ে প্রকল্প পরিচালক নিজেই একদিকে ঠিকাদার অন্যদিকে প্রকল্প পরিচালক। সবার নজর ফাকি দিতে তিনি একটি কৌশল অবলম্বন করেন কৌশলটি হলো এই প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষে তিনি নিজেই দুটি মোবাইল করেন কোথাও কোন অনিয়ম পড়লে তাঁকে অবহিত করে ঠিকাদারের নম্বার চাইলে তিনি তার অন্য নাম্বারটি দেন এবং সেই নাম্বারে কল দিলে তিনি ফোন রিসিভ করেন না আর করলেও খারাপ ব্যাবহার করে লাইনটি কেটে দেন। অনিয়মের বিষয়টি উপলব্ধি করতে পেড়ে ভোলা জেলার দৌলতখান উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম নবী নবু প্রকল্প পরিচালক ডাঃ নিতাই চন্দ্রকে ফোন দিলে তিনি উক্ত চেয়ারম্যানকে এই বলে হুমকি দেন তার হাত অনেক লাম্বা আপনি চেয়ারম্যান হয়েছেন কি হয়েছে আমাকে আমার মত কাজ করতে দিন।
জানা যায় বর্তমানে ভোলা জেলার দৌলতখান,লালমোহন,চরফ্যাসন উপজেলায় প্রকল্পটি চালু রয়েছে এক উপজেলায় ৫ টি করে ইউনিয়নের ৫০০ শত হতদরিদ্র পরিবার এই প্রকল্পটি থেকে সুবিধা ভোগ করবে। প্রতিটি ইউনিয়নের ২৫০ পরিবারকে ২০ টি করে হাস ২৫০ পরিবারকে ২০ টি করে মুরগি,১০০ পরিবারকে ০৩ টি করে ভেরা প্রদান করা হবে। একটি হাসের মুল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০০ টাকা ১ টি মুরগি ৩০০ টাকা, একটি ভেরার মুল্য ৮০০০ টাকা। একটি ইউনিয়নে ৫০০ প্রতিটি হাস ৩০০ টাকা একপরিবারে ২০ টা ২০×৩০০=৬০০*২৫০=১ লক্ষ ৫০ হাজার, মুরগি ৩০০★১৫০=৪৫০০,ভেরা ৮০০★১০০=৮ লক্ষ, হাস, মুরগি পালনের জন্য ৪০০ ঘড় ৪০০★৭৬০০= ৩০ লক্ষ ৪০ হাজার প্রতিইউনিয়রে বরাদ্ধ। সারা দেশে ১৬ টি উপজেলায় ৯৫ কোটি টাকা বরাদ্ধ দেওয়া হয়। কিন্তু সব ভেস্তে যায় প্রকল্প পরিচালকের কারসাজিতে। ছোট হাসের বাচ্চা,ছোট মুরগি,নিন্মমানের ঘড় সরবরাহ করা হয়। নাম মাএ মুল্য কাঠ দিয়ে তৈরি ঘড় ইউনিয়নে নিতেই ভেঙ্গে যায়। কাউকে না জানিয়ে প্রকল্প পরিচালক চুপি সারে এসে রোসানলে পড়েন সুবিধা ভোগিদের। মোঙ্গলবার সকাল ১১ টায় দৌলতখান প্রানিসম্পদ কর্মকর্তার কার্য্যালয়ে আসেন তিনি। এই উপজেলায় ৩ টি ইউপিতে প্রকল্প চলমান থাকলেও প্রানিসম্পদ কর্মকর্তার কার্য্যালয়ে প্রকল্পের কোন ধরনের নথি পত্র নেই, তারা শুধু দেখে যাচ্ছেন সরকার হত দরিদ্র মানুষ গুলোকে স্বাভলম্ভি করতে হাতে নেয়া প্রকল্পটি। কিন্তু প্রকল্প পরিচালক নয় ছয় করে বিষফোরা হিসেবে দার করিয়ে দেন। প্রতি উপজেলায় সুবিধা ভোগিদের উপকরন বিতরনের আগে প্রশিক্ষন প্রদান করা হয় উপজেলা প্রানিসম্পদ কর্মকর্তার কার্য্যালয়ে। ৩ দিনের প্রশিক্ষন দেওয়া হয় ১৫০০ জনকে। প্রতিজনকে ৩ দিনে ১৫০০ টাকা করে প্রদান করা হয়। জাতে ৩ ইউপিতে ২২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা প্রদান করা হয়। ঐ টাকা ও সঠিক ভাবে পায়নি তারা। উপজেলা ভেটেনারি সার্জন হিসেবে যোগদান করে পদন্নতি পেয়ে প্রকল্প পরিচালক হন ডাঃ নিতাই চন্দ্র সাহা। আর পিছনে তাকাতে হয় নি তাকে প্রায় দেড় বছরের পদন্নোতিতে ই তার ইসারায় সব। তার ভয়ে কেউ মুখ খুলতে চায়না। এই ১৬ টি উপজেলায় ৯৫ কোটি টাকার প্রকল্প ভুয়া লোক ও প্রতিষ্ঠানকে ঠিকাদার দেখিয়ে নিজেই করছেন ঠিকাদারি। ঠিকাদার দের ফোনে প্রকল্প সম্পর্কে জানতে ফোন দিলে তারা প্রকল্প পরিচালকের নাম্বার প্রদান করে তার কাছে জানতে চাইতে অনুরোধ করেন। হাসের খাদ্য,মুরগি খাদ্য,ভেরার খাদ্য, ঘড় তৈরিতে ভিন্ন ভিন্ন ঠিকাদার বা প্রতিষ্ঠান কাগজে থাকলেও বাস্তবে নেই। সরবরাহ কৃত হাশ গুলো মরে গেছে সিংহ ভাগ,ঘড় গুলো ১ মাসের মাথায় ছুটে গেছে। কোন দাপ্তরিক কর্মকর্তা প্রকল্প পরিচালকের ভয়ে কথা বলতে পারেন না।বদলি বা চাকুরি খেয়ে ফেলার ভয় দেখিয়ে সবাইকে আতংকে রাখেন তিনি। তবে অভিযোগ অস্বিকার করেন প্রকল্প পরিচালন।এদের মত অসাধু ব্যক্তিদের থামানো না গেলে সরকারের কোন উন্নয়ন প্রকল্পই সফল হবেনা বলে অভিমত সচেতন মহলের।