ব্রেকিংঃ

ভোলার আবওয়া অফিসে স্ত্রী ও শ্বাশুড়ী কতৃক স্বামী নির্যাতনের অভিযোগ।।

স্টাফ রিপোটার।।

ভোলায় স্ত্রী, শ্বাশুড়ি ও তার আত্নীস্বজন কতৃক স্বামী এবং তার পরিবারের উপর নির্যাতন এবং অবৈধ ভাবে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়।
উপয়ান্তরর না পেয়ে ভোলা সদর মডেল থানায় একটি সাধারন ডায়েরি করেন ভুক্তভোগি স্বামী মিজানুর রহমান।

সাধারন ডায়েরী সুত্রে জানাযায়
ভোলা পৌর সভার ১ নং ওয়াডের আবওয়া অফিস রোডে স্থায়ী ভাবে বসবাসরত মিজানুর রহমান বাপ্তা ইউনিয়নের মধ্য বাপ্তা এলাকার পিতা মৃত মোঃ ওলি উল্লাহর ছোট মেয়ে মোসাম্মদ আমেনা বেগম অনন্যা (অন্তু)এর সহিত পারিবারিক ভাবে ইসলামি শরিয়াত মোতাবেক বিগত ১৪/০২/২০১৮ ইং তারিখে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।
বিবাহের পরের দিন স্ত্রীর সাথে একান্তে প্রথম সাক্ষাতকালে স্ত্রী তাকে জানায় এ বিয়ে তার সম্পূর্ন অমতে হয়েছে।
তার সাথে অন্য একজন ছেলের সহিত প্রেমের সম্পর্ক আছে।

এর পর থেকে তার স্ত্রী তার চরম দুর্ব্যবহার করে আসছে এবং তাকে বিভিন্নভাবে অপমান অপদস্থ করাসহ তাকে বিভিন্ন হুমকি প্রদান করে আসছে। দিনের পর দিন তার স্ত্রী তার নামে বিভিন্ন মিথ্যা অপবাদ প্রচার করে আসছে এবং তাকে ফাসানোর জন্য বিভিন্ন ষড়যন্ত্র তৈরি করে আসছে। অন্যদিকে তার শ্বাশুড়ি মোসাঃ নাজমা বেগম সহিত প্রথম আলাপকালে তিনি প্রথমে যে বাক্যটি দিয়ে শুরু করেন তা হলো আমার ভাইরা ও আমার ভাইজি জামাই মোঃ মান্নান (ডিসি অফিসের সাবেক নাজির) সকালে মানুষকে জেলে পাঠায় বিকেলে জেল থেকে বের করে। এরপর থেকে দিনের পর দিন তার শ্বাশুড়ি তার সাথে চরম খারাপ ব্যবহার করে আসছে এবং তাকে বিভিন্ন অপমান অপদস্থ করা সহ বিভিন্ন মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানী করা ও চাকুরীচ্যুত করার হুমকি প্রদান করে আসছে। এছাড়াও তার শ্বাশুড়ি প্রথমে গোপনে গোপনে তার নামে বিভিন্ন মিথ্যা অপবাদ প্রচার করেছিল এবং স্বার্থ উদ্ধারের জন্য পরে সবাইকে বলতে থাকে। তার শ্বাশুড়ি তাকে বলে তার ইচ্ছা সে তার ঘর জামাই থাকবে এবং তার ঘরের ব্যয়ভার বহন করবে। এছাড়াও তার শ্বাশুড়ি তাকে বলে মেয়ের নামে পৌরসভায় জমি ক্রয় করে দিতে ও স্ত্রীর নামে ফ্লাট বাড়ি তৈরী করে দিতে। এরপর তার শ্বাশুড়ি তার স্ত্রীর সহযোগিতায় তার ভাই মাইনুদ্দিন ও ভাইজি জামাই মোঃ মান্নানসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসীকে সাথে নিয়ে তার বাড়িতে কয়েকবার হামলা করে। এছাড়া বিগত ১৯/০৫/২০১৯খ্রিঃ তারিখ তার শ্বশুড় বাড়িতে অবস্থানকালে রাত অনুমান ৩.৩০ ঘটিকার সময় তার শ্বাশুড়ি পূর্ব পরিকল্পিতভাবে ঘরের জানালা দিয়ে তাকে হত্যা করার জন্য সন্ত্রাস দিয়ে হামলা করান। ভাগ্য সহায় থাকায় তিনি বেঁচে যান। এই হামলার ৪ দিন আগে তার শ্বাশুড়ি তাকে বলে তোমার চাকুরীর বয়স কত তুমি পেনশন পাইবা কি না। একদিকে অত্যাচার, বিভিন্ন হুমকি ও বাড়িতে হামলা এবং অন্যদিকে বিভিন্ন মিথ্যা অভিযোগ,অপবাদ প্রচার করে তাকে এবং তার পরিবারকে বিভিন্নভাবে অপমান, অপদস্থ করা সহ এলাকার মানুষের কাছে ঘৃনিত করার চেষ্টা করেছে। এ সুযোগে তার এলাকার প্রভাবশালী ক্ষমতাধর গন্যমান্য ব্যাক্তিগন তার স্ত্রী ও শ্বাশুড়িকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করে এবং তাদের আবহাওয়া অফিস রোড থেকে উৎখাত করে কম মূল্যে তাদের বাড়ি ক্রয়ের চেষ্টা চালাচ্ছে। তার এলাকার ক্ষমতাধর প্রভাবশালী ব্যাক্তিগন তাদের পালিত ক্যাডার যেমন-ইউছুফ, আবুল হোসেন সহ আরো অনেককে তার ও তাদের পরিবারের দিকে লেলিয়ে দেয়। তাদের ক্যাডাররা তাকে ও তার পরিবারের সদস্যগনকে বিভিন্ন হুমকি ও হামলা করে আসছে এবং তাদের কাছ থেকে চাঁদা দাবী করে। এ সুযোগে তার স্ত্রী ঘরের সবার সাথে মারাত্নক খারাপ ব্যবহার শুরু করে। এরপর একদিন সন্ধ্যায় তার স্ত্রী তাকে বলে আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি তোমার সাথে আর সংসার করব না। এ সিদ্ধান্ত আমার সঠিক ও হতে পারে আবার ভূল ও হতে পারে। তবে জীবন চলার পথে রিস্ক নিতে হয়। এ কথা বলার পরের দিন আনুমানিক বেলা ৩.০০ ঘটিকার সময় তার স্ত্রী কাউকে না বলে বাড়ি থেকে বেড়িয়ে যায়। পরে রাত ১০.০০ ঘটিকার সময় তার মামা মাইনুদ্দিন ঘর্মাক্ত শরীরে তাকে নিয়ে আসে। সে সময় তার মামা কাঁপতে থাকে সে ঠিকমত কথা বলতে পারছিল না। এমন পরিস্থিতি দেখে তার মা ভয়ে তার ছেলেসহ তাকে ভিন্ন সংসার করতে দেন ও সাথে তার বৃদ্ধ বাবাকে দেন। এতেও সে থামেনি বরং ভিন্ন হওয়ার পরও সে তার স্বামী এবং শ্বশুড়ের সহিত আক্রমনাত্নক আচরন করে। একদিন সকালে তার স্ত্রী তার বাবাকে পঁচা ভাত দিয়ে উত্তেজিত করে তার মাকে ফোন করে। ফোন করার সাথে সাথে তার মা তার ভাই মাইনুদ্দিন ও ভাইজি জামাই মোঃ মান্নানকে সাথে নিয়ে বিভিন্ন সন্ত্রাসী দিয়ে মিজানের বাবা এবং মিজানকে হামলা করে আর বলে তুই আজ ফিনিশ। অপমান সহ্য করতে না পেরে তার বাবা পরের দিন বাড়ি থেকে চট্রগ্রাম চলে যান। সেখানে উচ্চরক্তচাপ বেড়ে রক্ত বমি করে অজ্ঞান হয়ে পড়লে সেখানকার লোকজন তার বাবাকে হাসপাতালে ভর্তি করেন। ৩ দিন পর তার হুশ ফিরে। ঘটনা ঘটিয়ে স্ত্রী তার বাবার বাড়ি মধ্য বাপ্তায় চলে যায়। মিজান বিচারের জন্য এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিদের পিছনে ঘুরতে থাকে কিন্তু কোন বিচার পান নি। একদিন দুপুর বেলায় এলাকার গন্যমান্য প্রভাবশালী ব্যাক্তি তার পালিত ক্যাডার আবুল হোসেনকে দিয়ে তাকে তার বাড়িতে ডেকে নিয়ে বলে তার স্ত্রী এবং শ্বাশুড়ি তাদের আত্নীয়। এলাকায় থাকতে হলে তার স্ত্রী ও শ্বাশুড়ির কথামত চলতে হবে। এ সুযোগ পেয়ে তার স্ত্রী ও তার শ্বাশুড়ি আরও উশৃঙ্খলতা শুরু করে তাকে উত্তেজিত করতে না পেরে তার ১৭ মাস বয়সের কন্যাকে নির্মমভাবে মারতে থাকে। এরপরও কোনভাবে কিছু না করতে পেরে বিগত ১৮/০৯/২০২০খ্রিঃ তারিখ স্বামীর সাথে ঝগড়া করে প্রায় তিনলক্ষ টাকার স্বর্নালংকারসহ নগদ ৪৫ হাজার টাকা নিয়ে তার বাবার বাড়ি মধ্য বাপ্তায় চলে যান।

অভিযোগকারি মিজানুর রহমান বলেন,বিয়ের আগ থেকে স্ত্রীর সাথে অন্য একজনের প্রেমের সম্পর্ক থাকায় এবং আমার শ্বাশুড়ীর অর্থের প্রতি লোভ থাকায় এ সমস্ত ঘটনাগুলো তারা ঘটিয়েছে এবং রটিয়েছে।

এদিকে মিজানের শ্বাশুড়ী নাজমার সাথে কথা বললে তিনি জানান, এক হাতে তালি বাজে না।
ভোলা পৌর ১ নং ওয়াড কাউন্সির মজনুর আলমেরর সাথে কথা হলে তিনি জানান দীর্ঘদিন তাদের পারিবারিক সমস্যা মিটানোর জন্য কাজ  করতেছি।