ব্রেকিংঃ

এক অর্জুন বনাম উত্তর ভোলার সাংবাদিকতা

আমি ইয়ামিন হোসেন ২০১২ সালের ডিসেম্বর মাসে দৈনিক ভোলা দর্পণ পত্রিকার মাধ্যমে লেখালেখি শুরু করি, আমি তখন নাজিউর রহমান কলেজ ইন্টারের ছাত্র এখন ২০২০ সাল বরিশাল সরকারী ল কলেজে পড়াশোনা করি।
আমার প্রথম নিউজ ছিলো “ভোলার রাজাপুরে চলছে জমজমাট জুয়ার আসর।।ধ্বংসের পথে যুব সমাজ ” ওই সময় এই নিউজ হওয়ার পর ডিবি পুলিশ অভিযান করে রাজাপুরের জুয়া বন্ধ করেছে, নানামুখী হুমকির মুখে পড়তে হয়েছে আমাকে, যাই হোক আজ অবধি অনেক কিছু দেখেছি, আরো দেখবো, আমার সংবাদে উত্তর ভোলার গরীব অসহায় মানুষের কথাগুলোই বেশি তুলে ধরার চেষ্টা করি, এ পর্যন্ত আমার প্রতিবেদনের পর অনেক গরিব দুস্থ মানুষ সরকারী ভাতা কার্ড পেয়েছে, কেউ সরকারী ঘর পেয়েছে আবার কেউ চিকিৎসার টাকা পেয়েছ, গরীব পরীক্ষার্থীরা ফরমপূরণের ব্যবস্থা হয়েছে।
মানুষের উন্নয়নে যেমন চেষ্টা করেছি তেমন মনের অজান্তে অনেক ভূলও হতে পারে।
ভোলা দর্পণ দিয়ে শুরু করলেও দীর্ঘদিন ভোলার পাঠকপ্রিয় ভোলার বাণী পত্রিকার প্রথমে ইলিশা প্রতিনিধি পরবর্তীতে কর্তৃপক্ষ আমাকে স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে পদন্নোতি দিয়ে কাজের গতি আরো বাড়িয়ে দিয়েছে।
সব সময় চেষ্টা করি নিজের কলমের মাধ্যমে সমাজে মানুষের কথাগুলো তুলে ধরতে হইতো রাজনীতিক বিভিন্ন প্রেক্ষাপটের কারনে অনেক কিছু এরিয়ে চলতে হয়, যেহেতু আমি মফস্বল এলাকায় বসবাস করি।
সমাজের ১০ জনের উপকারের স্বার্থে একটি সংবাদ প্রকাশ করতে গেলে প্রভাবশালী যে কোন কারো শক্র হতে হয়।
আমরা সেগুলো মোকাবেলা করেই কাজ করে যাচ্ছি।
ইদানীং অপসাংবাদিকদের কারনে ভালো কাজ করা মানুষের বদনামের পাল্লা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে আর সুযোগে সমাজের মুখোশধারী অপরাধীরা ও সুযোগ নিচ্ছে পেশাদার সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে।
গত ১৬ই নভেম্বর রাতে বাল্যবিবাহ সংক্রান্ত ঘটনায় গিয়ে স্থানীয়দের হাতে আটক হয় অর্জুন চন্দ্র ও তার সহকারী রাছেল, পরবর্তীতে ৯৯৯ এর মাধ্যমে পুলিশ তাদের থানায় এনে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে একটি চাঁদাবাজি মামলা হলে কারাগারে প্রেরণ করেন পুলিশ।
প্রশ্ন হলো অর্জুন আটক হলেও যারা ওই ঘটনায় প্রথমে গিয়ে টাকা এনেছেন তারা অদৃশ্য ইশারায় মামলা থেকে বাদ পড়েছেন যদিও ভুক্তভোগী পরিবার পারভেজ ও সুমন নাম উল্লেখ করেছেন।
অর্জুন ও তার সহকারী আটকের পরই আলোচনায় আসে উত্তর ভোলার সাংবাদিকতা নিয়ে, যে উত্তর ভোলায় সাংবাদিক বেশি, কিছু হলেই ফেসবুকে পোষ্ট করে।
ভোলা সদরের ১৩ ইউনিয়নের মধ্যে প্রধান শহরের সাথে সংযুক্ত বাপ্তা, কাচিয়া এবং পূব ইলিশা, উত্তর ভোলায় লঞ্চঘাট, দিবা লঞ্চঘাট, ফেরিঘাট এক কথায় দেশের উত্তর পশ্চিম অঞ্চলের ২১ জেলার সাথে যোগাযোগের প্রধান মাধ্যমে।
উত্তর ভোলার ইলিশার সন্তান ভোলার সুনামধন্য পত্রিকার সম্পাদক, টিভি চ্যানেল এর সাংবাদিক, জাতীয় পত্রিকার সাংবাদিক এবং স্থাণীয় পত্রিকার সাংবাদিক।
আপনারা কি জানেন? যে উত্তর ভোলায় বসবাসরতদের থেকে বেশি ভোলা শহরের বাসিন্দা যাদের নাম লিখতে কলম ভাঙ্গে, যারা প্রতিদিন সকালে বাসা থেকে বের হয়ে চিন্তা করে আজ কিছু ধান্ধা করে বিকালে বাজার করে বাসায় আসবো,তাদের আনাগোনা ইলিশায় সবচেয়ে বেশি, আমরা পারি তাদের প্রতিরোধ করতে কিন্তু আবার আমরা দেখি সেই অশিক্ষিত ফেরিওয়ালাদের সাথে ভোলার নামীদামী সাংবাদিকদের উঠাবসা, তখন আমাদের কি করার? কিন্তু বদনাম তো উত্তর ভোলার।
আমরা যারা এই পেশায় পরিশ্রম করে একটি নিউজ করি, আমার নিউজে যখন একটি পরিবারের উপকার হয়, তখন আমরা তৃপ্তি পায়, ভালো লাগে কিন্তু যারা ফেরিওয়ালা তাদের তৃপ্তি নিউজে না তাদের তৃপ্তি কিছু টাকায়।
অস্বীকার করবো না যে উত্তর ভোলায় ভুয়া সাংবাদিক নাই, আবার এটাও প্রশ্ন জাগে তাদের সাংবাদিক বানাচ্ছে কে? প্লীজ আপনারা সিনিয়র সাংবাদিক যারা আছেন উত্তর ভোলার সাংবাদিকদের তালিকা করুন, যোগ্যতা যাছাই-বাছাই করুন, যোগ্যতা না থাকলে প্রথমে সর্তক পরবর্তীতে না শুনলে ছবিসহ প্রকাশ করুন, যদি ওই তালিকায় আমিও পরি ব্যবস্থা নিন তবুও ঢালাও ভাবে বলবেন না প্লীজ, একজন শিক্ষিত ছেলে হিসেবে এগুলো শুনলে কষ্ট পাই। খোঁজ নিন কারা উত্তর ভোলায় সাংবাদিকতার নামে অপসাংবাদিকতা করে, কারা এই অপসাংবাদিকতদের সেল্টার দিচ্ছে? আজকের ভোলার সাংবাদিকতা কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে? প্রাথমিক স্কুল শেষ করেনি, ব্যাটারির দোকানদার, সুদের কারবারি, হলুদ মরিচের দোকানদার, মুদি দোকানদার, ফুসকার দোকানদার, চিহ্নিত মাদকসেবী সবই আজ সাংবাদিক।
এই নামধারী সাংবাদিকদের শিক্ষাগত যোগ্যতা কি? তারা কোন পত্রিকার সাংবাদিক? আদৌ কি তাদের কোন সংবাদ পাঠক দেখেছে? দুই একটি ফেসবুকে দেখলেও সেটা কপিপেষ্ট, তাদের বিরুদ্ধে কেনো সিনিয়রা কথা বলেন না? কি ভাবেই বলবেন কোন না কোন সিনিয়রের ছত্রছায়ায়ই তারা চলে।
উত্তর ভোলায় যেমন রয়েছে আলহাজ্ব শওকাত হোসেন, কামাল উদ্দিন সুলতানের মত গুণি সাংবাদিক আবার এডভোকেট শাহাদাত হোসেন শাহীন,এডভোকেট মনিরুল ইসলামের মত সাহসী প্রতিবাদী সাংবাদিক তেমনি রয়েছে কিছু নামধারী অশিক্ষিত হলুদ সাংবাদিক।
তাদের বিরুদ্ধে কথা বলার সময় এসেছে এখনই এই অশিক্ষিত সাংবাদিক নামধারীদের প্রতিরোধ করে তাদের পূর্বের কর্মস্থলে ফেরাতে হবে এই জন্য প্রয়োজন সিনিয়র সাংবাদিকদের নির্দেশ ও জনগণের সচেতনতা, তাহলেই সম্ভব হবে অপসাংবাদিকতা দুর করতে।
লেখায় ভূল হলে ক্ষমা করবেন।

ইয়ামিন হোসেন
স্টাফ রিপোর্টার ভোলার বাণী
জেলা প্রতিনিধি তরঙ্গ নিউজ ডট কম।
শিক্ষার্থী বরিশাল সরকারী ল কলেজ।