ব্রেকিংঃ

ভোলা হোমিওকলেজ রোডে দিনে ও রাতে চলছে দূধর্ষ চুরির ঘটনা।।

ইসমাইল হোসেন আরিফ ||

ভোলা পৌরসভায় হোমিও কলেজ এলাকায় নাজিমুদ্দিন আলমের বাসায় দূর্ধষ চুরির ঘটনা ঘটেছে। গতকাল সোমবার রাতে ভোলা পৌর শহরের ৫নং ওয়ার্ডের হোমিওকলেজ সংলগ্ন আইয়ুব আলী সড়কের সেকান্দর সিকদার বাড়ীর দরজা’র সম্মুখে নির্মিত চারতলা ভবনের একটি ভাড়াটিয়া ফ্লাটে এই চুরির ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, নাজিমুদ্দিন আলম পেশায় একজন ব্যবসায়ী। তার স্ত্রী একজন গৃহিনী। চারতলা ভবনের দুই তলার ডান পাশের ফ্লাটে দীর্ঘ ৪ বছর ধরে সপরিবারে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে আসছেন তারা। গত রবিবার (১৪ই মার্চ) সকালে তারা বাসা তালা মেরে ঢাকায় যান। তার পরদিন ১৫ই মার্চ গতকাল রাতে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা ও তার নিকটাত্মীয়রা জানায়, বাসায় কেউ না থাকায় এবং ভবনের একই তলায় তার পাশের ফ্লাটটি খালি থাকায় গেট দিয়ে নির্বিঘ্নে উপরে উঠে তালা ভেংগে মূল দরজা দিয়ে বাসায় ঢুকে চোর। এসময় আলমারির দরজা ভেঙ্গে ড্রয়ারে থাকা প্রায় ৫ ভরি গহনা ও নগদ প্রায় দেড় লাখ টাকা চুরি করে বারান্দার গ্রিল কেটে ওয়াল টপকে পালিয়ে যায় চোর। রাত সাড়ে এগারোটায় খবর পেয়ে ওই ফ্লাটের পরিবারের নিকটাত্মীয়রা ও প্রতিবেশীরা ঘটনাস্থলে যান। চুরি যাওয়া ফ্লাটের নমুনা চিহ্ন ও ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে এমনটাই ধারনা করছেন তারা ।

এ ব্যাপারে নিকটাত্মীয় মোঃ রিপন ভোলা সদর মডেল থানায় একটি অজ্ঞাত মামলা দায়ের করেছেন।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, ভোলা পৌরসভার ০৫নং ওয়ার্ডের সেকান্তর আলী সিকদার বাড়ীর সম্মুখে নির্মিত এই চারতলা ভবনটির মালিক একজন সৌদি প্রবাসী। সেই সূএে পুরো ভবনটিতেই ভাড়াটিয়ারা থাকেন। তার মধ্যে কিছু ফ্লাটে পুরুষ ব্যাচেলর ভাড়াটিয়া বসবাস করেন এবং ভবনটির রক্ষনাবেক্ষনের জন্য নেই কোন কেয়ারটেকার। সর্বদা উম্মুক্ত থাকে ভবনের গেইটটি। ইতিপূর্বে অভিযোগ রয়েছে এই ভবনটির ছাদে বসে এলাকার স্থানীয় বখাটেরা মদ, গাজা, ইয়াবা সেবন করে। চলে জুয়া খেলাও। এছারাও বিগত ১৫ দিনের মধ্যে একই এলাকার আরো কিছু ভবনে এমন চুরির ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয় সূএে জানা যায়।

স্থানীয় বাসিন্দা ও এলাকার গন্যমান্য ব্যাক্তি মোঃ রফিক সিকদার বলেন, এর আগেও একাধিকবার বিভিন্ন ধরনের অনৈতিক ও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে এ ভবনটিতে। আরও দুই বছর আগে থেকে চারতলা এ ভবনটিতে দিনে-রাতে বখাটে যুবকদের মাদকসেবনের আড্ডা নিয়ে আমরা পুলিশ ফাড়িতে অভিযোগ করে আসছি। তিনি আরও বলেন, ৫নং ওয়ার্ডের নব নির্বাচিত কাউন্সিলর এরফানুর রহমান মিথুন মোল্লার সাথে কথা বলেছি, অএ এলাকাটি খুব শিগ্রই সিসি ক্যামেরার আওতাভুক্ত করতে ও এলাকার নস্ট সড়ক বাতিগুলো খুলে যেন অতিসওর নতুন সড়ক বাতি ব্যবস্থা নেয়। এছারাও পুলিশ প্রশাসনে তৎপরতা বৃদ্দির দাবি জানিয়েছি।

এ ব্যাপারে ভোলা পৌরসভার ০৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর এরফানুর রহমান মিথুন মোল্লা বলেন, এলাকায় এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ও অপ্রীতিকর ঘটনার পূনরাবৃওি যেন না ঘটে এর যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছি। এছারাও স্থানীয় বাসিন্দাদের সচেতনতা বৃদ্ধিতে আরো সতর্ক হওয়ার আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এ বিষয়ে ভোলা সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃএনায়েত হোসেন বলেন, বিষয়টি জেনেই তাৎক্ষনিক ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। আমরা অভিযোগ পেয়েছি সে মতে চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধারে পুলিশ কাজ করছে।