ব্রেকিংঃ

ভোলায় পরকীয়ায় বাঁধা দেয়ায় স্ত্রীকে হত্যার চেষ্টা।।

স্টাফ রিপোটার ।। ভোলা সদর উপজেলায় পরকীয়ায় বাঁধা দেয়ায় স্ত্রীকে মারধর ও গলা টিপে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে মো. সবুজ নামের এক বোরাক (ব্যাটারী চালিত রিকশা) চালকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত জান্নাত বেগম ভোলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। শনিবার দিবাগত রাত এক টার দিকে উপজেলার ধনিয়া ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের শনিরপোল এলাকার সরকারি কলোনীতে এ ঘটনা ঘটে। বরিবার সকালে আহত জান্নাত বেগমকে উদ্ধার করে ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন তার স্বজনরা। এবং এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত জান্নাত বেগম জানান, ২০০৪ সালে ওই এলাকার মো. হাবিবুল্লাহর ছেলে মো. সবুজের সাথে পারিবারিকভাবে তার বিয়ে হয়। বর্তমানে তাদের সংসারে দুই মেয়ে এক ছেলে রয়েছে। বিয়ের পর থেকে স্বামী মো. সবুজ জুয়া খেলায় আসক্ত হয়ে কোনো কাজ করতো না। শুধু সারাদিন ঘুরাফেরা করতো আর জুয়া খেলতো। পরে সে বাবার বাড়ি থেকে টাকা এনে একটি বোরাক কিনে দেয়। বোরাক চালিয়ে তাদের সংসার ভালোই চলছিলো। কিছুদিন পর সবুজ বিদেশে যাওয়ার কথা বললে স্ত্রী জান্নাত বেগম মানুষের কাছ থেকে প্রায় তিন লাখ টাকা ঋণ নিয়ে তাকে বিদেশ পাঠায়। এ তিন লাখের মধ্যে তার স্বামী মাত্র ৮০ হাজার টাকা পরিশোধ করেন। বাকী টাকা জান্নাত তার ভাই ও মায়ের কাছ থেকে এনে পরিশোধ করেন। গত বছর লকডাউনের সময় মো. সবুজ বিদেশে করোনা আক্রান্ত হলে বাংলাদেশ থেকে টাকা পাঠিয়ে তাকে দেশে আনা হয়। সুস্থ্য হওয়ার পর এনজিও থেকে কিস্ততে টাকা নিয়ে আবারও বোরাক কিনে দেন জান্নাত। বোরাক চালিয়ে এনজিওর কিস্তি দিয়ে তাদের পাঁচ সদস্যের সংসার ভালোই চলছিলো। এরই মধ্যে সবুজ অন্য একটি মেয়ের সাথে মোবাইলে পরকীয়া শুরু করে। এনিয়ে শুরু হয় সংসারে অশান্তি। সে দীর্ঘ সময় ধরে ওই মেয়ের সাথে মোবাইলে কথা বলে। তাকে নিষেধ করলেই সে বলে, আমি ওই মেয়েকে বিয়ে করবো। এগুলো নিয়ে গত চার মাস আগেও সবুজ স্ত্রী জান্নাতকে মারধর করে আহত করে। পরে সে তার বাপের বাড়ির লোকজনের সহায়তায় হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছে। পরে স্থানীয় ইউপি সদস্য ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা সালিশ মিমাংশার মাধ্যমে তাদের দু’জনকেই মিলমিশ করে দেয়।
এর পর দুই মাস ভালোভাবে চলছিলো তাদের সংসার। গত দুই মাস আগ থেকে আবারও পরকীয়ায় জড়ায় সবুজ। অনেক রাত করে ঘরে আসে। ঠিকমত বসায় বাজার করে না। এগুলো নিয়ে তাকে কিছু বললেই সে উল্টো জান্নাতকে আরেক বিয়ে করে তাকে ছেড়ে দেয়ার হুমকি দেয়। এ অবস্থায় শনিবার রাতে সবুজ বোরাক চালিয়ে বাসায় আসে। ঘরে এসে খাওয়া দাওয়া শেষ করে মোবাইল নিয়ে রাস্তায় গিয়ে কথা বলা শুরু করে। পরে জান্নাত বেগম তার পিছন পিছন রাস্তায় গিয়ে দেখেন সবুজ এক মেয়ের সাথে মোবাইলে কথা বলছে। এ নিয়ে জান্নাত কিছু বলার আগেই সবুজ তাকে মারধর শুরু করে। এক পর্যায়ে সবুজ জান্নাতের গলা চেপে ধরে মেরে ফেলার চেষ্টা করলে সে ডাকচিৎকার দিলে আশপাশের লোকজন এসে তাকে উদ্ধার করে। পরে সকালের দিকে তাকে ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।
এব্যাপারে অভিযুক্ত মো. সবুজ মারধরের কথা স্বীকার করে বলেন, রাতে আমার একটি রিজার্ভ ভাড়া ছিলো। তার জন্য রাস্তায় গিয়ে অপেক্ষা করছিলাম। পরে জান্নাত পিছন দিক থেকে এসে আমার শার্টের কলার ধরে ধস্তাধস্তি শিরু করলে আমি তাকে চর-থাপ্পর দেই। আমার ছেলে মেয়েরা বড়। এসময় আমি কি আমার সংসার নষ্ট করবো। আর মোবাইলে কথা বললেই তো সংসার ভেঙে যায় না।
ভোলা সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. এনায়েত হোসেন বলেন, এ বিষয়ে আমাদের কাছে কেউ কোনো অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।