ব্রেকিংঃ

ভোলার ইলিশা ফেরিঘাটে চাঁদাবাজি চরম শিখরে।।

স্টাফ রিপোটার।।

ভোলা-লক্ষ্মীপুর নৌ-পথের ইলিশা ফেরিঘাট।
এ রুট দিয়ে প্রতিদিন যাওয়া আসা করে শত শত মালবাহী যানবাহন।

কিন্তু এ ফেরিতে উঠতে হলে ঘাটে থাকা লাইনম্যানকে দিতে হয় গাড়িপ্রতি ২০০-৫০০ টাকা। টাকা না দিলে ফেরিতে উঠতে বাধার মুখে পড়তে হয় চালকদের। ভয়ে চালকরা এই অনিয়মের প্রতিবাদও করতে পারছেন না।

জুলাই মাসের ০১/০৭/২১ ইং তারিখ থেকে আগামী এক বছরের জন্য ইলিশা ফেরিঘাটের নতুন ইজারাদার মো. ইউছুফ পাটওয়ারী ঘাটের টোল আদায়ের দায়িত্ব পান।
এক বছরের জন্য ৩৭ লাখ টাকায় তিনি এই ঘাট ইজারা নেন। এর পরিবর্তে ইজারাদার প্রতি গাড়ি থেকে টিকিটের মাধ্যমে ৭৫ টাকা করে আদায় করে। এছাড়াও ইজারাদারের পক্ষ থেকে ঘাটে গাড়ির সিরিয়াল ঠিক রাখার জন্য নুর ইসলাম নামে একজন লাইনম্যান নিয়োগ করা হয়। এর আগে এ লাইনম্যানের দায়িত্বপালন করতো বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষ। সম্প্রতি নতুন ইজারাদার আসার পর থেকে ইজারাদার নিজে লাইনম্যান নিয়োগ দেয়। আর এ লাইনম্যানের মাধ্যমেই গাড়ি প্রতি ২০০ থেকে ৫০০ টাকা করে চাঁদা তোলা হয় বলে অভিযোগ করেন চালকরা।

সোমবার বেলা ১১টার দিকে ইলিশা ফেরিঘাটে গিয়ে দেখা যায়, ফেরি কলমিলতা গাড়ির জন্য ঘাটে অপেক্ষা করছে।
ফেরি ছাড়ার সময় হলে গাড়ি উঠানো শুরু হয়। এবং গাড়ি থেকে লাইনম্যান নুর ইসলাম কোনো স্লিপ ছাড়াই টাকা উঠাচ্ছেন। একটি প্রাইভেট কার টাকা না দেয়ায় গাড়িটিকে পাশে দাঁড় করিয়ে রাখে। পরে সংবাদকর্মীদের উপস্থিতি টের পেয়ে গাড়িটিকে ছেড়ে দেয়। অভিযোগ রয়েছে ঘাটে সংবাদকর্মী বা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের দেখলে ফেরি ঘাটের স্টাফ আবুল হোসেনকে দিয়ে এ টাকা আদায় করে থাকে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক গাড়ির চালক অভিযোগ করে বলেন, ঘাটে ফেরিভাড়া ও ঘাটের টোল দেয়ার পরও লাইনম্যানকে অতিরিক্ত টাকা না দিলে ফেরিতে উঠতে ভোগান্তি পোহাতে হয় তাদের। এ কারণেই অতিরিক্ত টাকা দিয়েই তারা প্রতিদিন এ রুটে যাতায়াত করেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে চরফ্যাশন থেকে আসা গরু বোঝাই এক ট্রাক চালক জানান, তিনি চরফ্যাশন থেকে গরু নিয়ে চট্টগ্রাম যাচ্ছেন। বিআইডব্লিউটিসির অফিস থেকে ফেরিভাড়া ও টোল আদায়ের টিকেট কেটে ফেরিঘাটে আসতেই তার কাছ থেকে অতিরিক্ত ৫০০ টাকা দাবি করে লাইনম্যান। লাইনম্যানের দাবিকৃত টাকা দিয়েই তাকে ফেরিতে উঠতে হয়েছে। কিছু করার নেই তাদের। কারণ, ঘাটের লোকদের কাছে তারা জিম্মি। প্রতিদিনই তাদেরকে এ ঘাট দিয়ে বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যাতায়াত করতে হয়।

তিনি জানান, গরু ও কাঁচামালবাহী ট্রাক দেখলেই ঘাটের লোকজন হুমড়ি খেয়ে পড়ে। কারণ, এগুলোতে পচনশীল মালামাল থাকায় দ্রুত পারাপার হতে হয় তাদের। এ সুযোগে অতিরিক্ত টাকা নিয়ে ফেরিতে উঠায় লাইনম্যান। ঘাটের লোকজন প্রভাবশালী হওয়ায় অতিরিক্ত টাকার বিষয়ে প্রতিবাদ করতেও পারছে না চালকরা। প্রতিবাদ করলেই তাদেরকে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। তাই কেউ প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করেন না।

ঘাটে থাকা বিআইডব্লিউটিসির অফিস সহায়ক মো. হাসান বলেন, এর আগে ঘাটে আমাদের লাইনম্যান থাকতো। এখন নতুন ইজারাদার আসায় তারাই লাইনম্যান দিয়ে টাকা নেয়। তারা প্রভাবশালী হওয়ায় আমাদের লোক বাদ দিয়ে তাদের লোক দিয়েছে। আমাদের (বিআইডব্লিউটিসি) কেউ এখান থেকে টাকা উঠায় না।

এ ব্যাপারে ঘাটের লাইনম্যান নুর ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি গাড়ি থেকে কোনো টাকা নেই না। কেউ অভিযোগ করলে প্রমাণ দেখাতে হবে।

ঘাটের ইজারাদার মো. ইউছুফ পাটওয়ারী টাকা নেয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, ঘাটে জায়গা কম থাকায় গাড়িগুলো এলোমেলো করে রাখে। তাই ঘাটের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আমরা একজন লাইনম্যান দিয়েছি। আর সে গাড়িগুলো সিরিয়াল করে রাখে। এর পরিবর্তে চালকরা তাকে ২০-৫০ টাকা খুশি হয়ে দেয়। তবে গরু ও কাঁচামালের গাড়ি থেকে টাকা আদায়ের বিষয়ে ইজারাদার ইউছুফ বলেন, এ গাড়ি থেকে বিআইডব্লিউটিএর লোকজন স্পেশাল ৫০০ টাকা করে নিয়ে থাকে। আমরা কোনো টাকা নেই না।

ইলিশা ফেরিঘাটের দায়িত্বে থাকা বিআইডব্লিউটিসির মেরিন অফিসার মো. হারুন অর রশিদ বলেন, তাদের কোনো লাইনম্যান নেই। আর ঘাটও তাদের নয়, বিআইডব্লিউটিএর। তাই টাকা ওঠানোর প্রশ্নই আসে না।

হারুন বলেন, ‘শুনেছি, ইজারাদারের লোকজন চালক নয়তো বেপারিদের কাছ থেকে গরু ও কাঁচামালের গাড়ি থেকে টোলের বাইরেও টাকা নিচ্ছে। কিন্তু কতো নিচ্ছে, তা জানি না।’

বিআইডব্লিউটিএর ভোলা নদী বন্দরের উপ-পরিচালক মো. কামরুজ্জামান বলেন, ‘ইজারাদার বড় ট্রাকের জন্য ৭৫ টাকা, ছোট গাড়ির জন্য ৫০ টাকা, মোটর সাইকেলের জন্য ৩৫ টাকা টোল নেবেন। কেনো সব গাড়ির কাছ থেকে ৭৫ টাকা নিচ্ছেন, তা খতিয়ে দেখা হবে।’

উপ-পরিচালক বলেন, ‘পন্টুনের লষ্কর ইজাদারকে চাঁদাবাজিতে সহায়তরা করার কথা না, তারপরেও তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’