ব্রেকিংঃ

ভোলার লালমোহনে বীরদর্পে ঘুরে বেড়াচ্ছে অসংখ্য অন্যায়ের মূল হোতা বিএনপি নেতা মোস্তফা মাতবর গংরা

লালমোহন প্রতিনিধি : ভোলার লালমোহন উপজেলার পশ্চিম চরউমেদ ইউনিয়নে বিএনপি-জামাত জোট সরকারের আমলে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট, জবরদখল ও নারী কেলেংকারীসহ অসংখ্য অন্যায় করেও এখনও বীরদর্পে ঘুরে বেড়াচ্ছে ওই ইউনিয়ন বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মাতবর গংরা।
এ নিয়ে ওই ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
জানা যায়, মোস্তফা মাতবর ইউনিয়ন বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক থাকার সুবাধে বিএনপি-জামাত জোট সরকারের আমলে (২০০১ সাল পরবর্তী) তার ছেলে মামুন অসংখ্য অন্যায়-অনিয়ম করেও অনায়াসে পার পেয়ে গেছে। তাদের দল ক্ষমতায় ছিল বিধায় নির্যাতিত হয়েও কেউ ভয়ে মূখ খুলতনা এবং আইনের দ্বারস্থ হওয়ারও সাহস পায়নি।
এমন অভিযোগ করে গজারিয়া বাজার এলাকার একজন জানান, সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তার স্ত্রীকে ধর্ষণ করেছিল মোস্তফা মাতবরের ছেলে মামুন। তাদের ক্ষমতার কাছে অসহায় হয়ে কোন মামলা বা আইনের দ্বারস্থ হতে পারেন নি তিনি।
মোস্তফা মাতবরের ছেলে মামুন ও সে সময় ইউনিয়ন যুবদলের পদে আসীন থাকায় এমন অন্যায় অবিচার করেও সহজে পার পেয়ে যেতেন।
গজারিয়া এলাকার মিরাজ নামের একজন অভিযোগ করে বলেন, ২০০১ সালে মামুন বাহিনী মিরাজের বাবার উপর হামলা চালায়। র্দীর্ঘ তিনমাস চিকিৎসা শেষে মারা যায় তার বাবা নান্নু খলিফা।
এদিকে গজারিয়া বাজারে মোস্তফা মাতবরের দোকানঘর থাকার সুবাধে ও দোকানঘর ভাড়ার দেয়ার কথা বলে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগও রয়েছে মামুনের বিরুদ্ধে।
এমন অভিযোগ করে আওলাদ নামের একজন বলেন, গত বছর বাজারের দোকানঘর ভাড়া বাবদ তার কাছ থেকে ১লক্ষ ২০হাজার টাকা নেয় মামুন। পরে দোকানঘর তো দিলই না বরং টাকাও ফেরত দেয়নি সে। টাকা চাইতে গিয়ে উল্টো হুমকির শিকার হয়েছেন তিনি।
জাফর নামের বাজারের আরেক ব্যবসায়ী জানান, প্রায় দুই বছর আগে তার কাছ থেকেও দোকানঘর ভাড়া দেয়ার কথা বলে ৫০হাজার টাকা নিয়ে দোকানঘর দেয়নি মামুন। টাকাও ফেরত না দিয়ে এখন ফোন রিসিভ করেনা সে।
এদিকে জমি বিক্রির কথা বলে ২০০৪ সালে কামরুল নামের আরেকজনের কাছ থেকে ৫০হাজার টাকা নিয়ে তা আত্মসাতের অভিযোগও উঠেছে মামুনের বিরুদ্ধে। কামরুল বলেন, জমি তো দিলই না, টাকা ও দিচ্ছেনা মামুন। বিএনপি সরকার ক্ষমতায় ছিল বলে তাদের দাপটের কাছে অসহায় হয়ে টাকা চাইতেও পারিনি বলেও জানান কামরুল।
বর্তমানে মামুন সমবায় অফিসে চাকুরি করে। তবে এরপরও তার অপকর্ম ও অন্যায় থেমে নেই। তার ছোট ভাই মমিনকে দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেজবুকে ভুয়া আইডি দিয়ে সমাজের বিভিন্ন ব্যক্তিদের মানক্ষুন্ন করার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সে।
এমনি একটি ভুয়া আইডির বিরুদ্ধে গত ১৬জুন লালমোহন থানায় সাধারণ ডায়েরী করেন পশ্চিম চরউমেদ ৫নং ওয়ার্ড এলাকার আলমগীর মাতবরের ছেলে মােঃ আল আমিন সবুজ। জিডি নং-৬৪৯/২০২০, তারিখ ১৬জুন।
মোস্তফা মাতবর ও তার ছেলেদের এসব অপকর্ম ও অন্যায় বন্ধে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা।

দুঃখিত! কপি/পেস্ট করা থেকে বিরত থাকুন।