ব্রেকিংঃ

সাম্প্রতিক ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের পরিস্থিতি নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতার ব্যাক্তিগত মতমত।।

জনতার বাণী ডেক্স।।

সাম্প্রতিক ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের পরিস্থিতি দেখে আওয়ামী লীগ এর একজন কর্মী হিসাবে আমার ব্যাক্তিগত কিছু মতামতা প্রকাশ করছি:
অনেকক্ষেত্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতৃবৃন্দ অর্থের বিনিময়ে এবং নিজস্ব বলয় তৈরি করার জন্য দলের জনপ্রিয় ও ত্যাগীদের বাদ দিয়ে নিজের লোককে প্রথম দেখিয়ে কেন্দ্রে নাম পাঠিয়ে দেন। এক্ষেত্রে এসব অজনপ্রিয় প্রথম ব্যাক্তিরা নৌকা প্রতীক পেয়ে গেলে, বাস্তবে ভোটের মাঠে তারা জিততে পারেনা। অন্যদিকে জনপ্রিয় ও ত্যাগীরা রাগে ক্ষোভে দলীয় প্রতীকের প্রতিপক্ষ হয়ে নির্বাচন করে। আবার জনপ্রিয় ব্যাক্তিরা অনেকেই নির্বাচিত হয়ে যায়।

এক্ষেত্রে বিদ্রোহী বিবেচনায় দল যদি সমগ্র দেশে আওয়ামী লীগ এর জনপ্রিয়দের বহিস্কার করে দেয়, তাহলেতো দল জনপ্রিয় ব্যাক্তিদের হারাবে। আর এটাতো দলের জন্য শুভ নয়।

স্হানীয় নির্বাচনগুলো সাধারণত পরিবার ও ব্যাক্তি জনপ্রিয়তার উপর নির্ভর করে। এক্ষেত্রে নৌকা প্রতীক দেয়ার কারনে আওয়ামী লীগের প্রতিপক্ষ হচ্ছে আওয়ামী লীগ। নৌকার বিরুদ্ধে দাড়াচ্ছে আওয়ামী লীগ এবং দল অনেক উপদলে ভাগ হয়ে যাচ্ছে।

সুতরাং আওয়ামী লীগ কে ঐক্যবদ্ধ রাখতে হলে খুজে খুজে জনপ্রিয় ত্যাগীদের নৌকা প্রতীক দেয়া দরকার অথবা স্হানীয় নির্বাচনে প্রতীক বাদ দিয়ে ওপেন করে দেয়া প্রয়োজন। নইলে আওয়ামী লীগ এর বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ। নৌকার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ মুখোমুখি হচ্ছে। আর অথনৈতিকভাবে মোটাতাজা হচ্ছে কিছু সুবিধাবাদীরা। অধিকাংশ, ক্ষেত্রেই আওয়ামী লীগ ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে।

দ্বিতীয় দফা ইউনিয়ন পরিষদের কথা যদি বলি, সেখানে নৌকা মার্কা নিয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন ৪৮৬ জন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। আর স্বতন্ত্র নির্বাচিত হয়েছেন ৩৩০ জন। বেশিরভাগই আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী।

বিএনপি-জামায়াতের প্রার্থী নেই বললেই চলে। আওয়ামী অধ্যুষিত অনেক এলাকাতেই নৌকার জামানত বাজেয়াপ্ত। দলের বিদ্রোহীরা জিতে গেছেন অথবা অন্য প্রার্থীরা এই দ্বন্দ্বের সুযোগ নিয়েছেন। অনেক জায়গায় দলের ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতারা মেম্বার পদপ্রার্থী হয়েছেন। নিজেরা পাস করার জন্য নৌকার বিরুদ্ধে ভোট ভাগাভাগি করে অন্যদের সাথে ব্যালেন্স করেছেন।

এই নৌকা শুধু আওয়ামী লীগের প্রতীক না। স্বাধীনতার প্রতীক, মুক্তিযুদ্ধের প্রতীক, মানুষের অর্থনৈতিক সামাজিক মুক্তির প্রতীক, সমৃদ্ধ ডিজিটাল বাংলাদেশের প্রতীক। এই প্রতীককে তৃণমূল পর্যায়ে এই রকম হেনস্তা খুবই কষ্টদায়ক!

আগে শুনতাম, বিএনপি জামায়াত রাতের আঁধারে নৌকা প্রতীকে আগুন দিত। কারণ স্বাধীনতা বিরোধীদের কাছে নৌকা প্রতীক দুশমন। তারা সহ্য করতে পারে না। এইবার সংবাদে দেখেছি, আওয়ামী লীগাররাই আগুন দিয়েছে প্রতিপক্ষ প্রার্থীর পক্ষ হয়ে। নৌকার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ, আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে নৌকা। এটা ভাবা যায়? তবে এখনকার বাস্তবতা এটাই সত্য …

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এর শ্রদ্ধেয় কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সদয় দৃষ্টি কামনা করছি।

দুঃখিত! কপি/পেস্ট করা থেকে বিরত থাকুন।