ব্রেকিংঃ

ভোলার ভেলুমিয়ায় রাস্তা কেটে বর যাত্রী আটকিয়ে দিলেন ইউপি সদস্য হারুন মাল।।

এম রহমান রুবেল।।

ভোলার ভেলুমিয়া ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের চরগাজী গ্রামে রাস্তা কেটে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিলেন ইউপি সদস্য হারুন মাল।
যার ফলে বরযাত্রীসহ শত শত পথচারীরা চরম দুর্ভোগে পড়ে।

ইউপি সদস্য হারুন মালের এমন কর্মকাণ্ডে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে এলাকাবাসী।
যেখানে ইউপি সদস্য মানুষের বিপদ আপদে পাশে দাঁড়াবেন, সেখানে তিনিই রাস্তা কেটে জনগণের ভোগান্তি সৃষ্টি করলেন।
গত ১৭/১১/২০২২ইং তারিখ রাতে ওই এলাকার বাসিন্দা জামালের মেয়ের গাঁয়ে হলুদ অনুষ্ঠান ছিলো। বরের আত্নীয়স্বজসহ স্থানীয়রা গায়ে হলুদ অনুষ্ঠানে আসার জন্য রওনা দেয়। রাস্তা কাটা দেখে তাদের গাড়ি নিয়ে জামালের বাড়িতে আসতে পারেনি।
বিয়ে বাড়িতে যাতে বর পক্ষ না আসতে পারে সে জন্য ইউপি সদস্য রাস্তা কেটেছে বলে জানা যায়।

রাস্তা কেটে জনগনের ভোগান্তি সৃষ্টি করায় সাধারণ মানুষ চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ইউপি সদস্যের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

ভুক্তভোগী জামাল জানান,গত ১৭ /১১/২২ ইং তারিখ রাত্রে আমার মেয়ের গাঁয়ে হলুদ অনুষ্ঠান আমার জামাই আত্নীয় স্বজন সহ স্থানীয়রা আসবে।
বাড়ির সামনে এসে রাতে রাস্তা কাটা দেখে আমাকে ফোন করে বলে রাস্তা কাটা কিভাবে আসবো আপনার বাড়ি তখন আমি দৌড়ে চলে যাই ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি স্থানীয় হারুন মাল মেম্বার দাড়ানো আমি তখন তাকে জিজ্ঞেসা করলাম ভাই আপনি থাকতে রাস্তা কাটলো কে সে উত্তরে বললো আমি কেটেছি তুই রাতে ডেক্স সেট সাউন্ড বাজিয়েছো পাশে তাফসির চলছিল তোমরা সাউন্ড কমাও নাই। ভুক্তভোগী জামাল বললো ভাই আমার বাসা থেকে তো অনেক দুরে আর আমি কাজে ছিলাম পোলাপান চালাইছে হয়তো কিন্তু সাউন্ড তো সেখান থেকে শুনা যায় না।
জামাল বললো রাত ১০ টা পর্যান্ত চালিয়েছিল পোলাপান পরে তো বন্ধ করে দিয়েছি।
জামাল মেম্বার কে অনুরোধ করে বলে ভাই রাস্তাটি ঠিক করে দেন মেম্বার বলল না আমি ও ঠিক করবো না তোকেও দিবো না ঠিক করতে আর তোর কোন আত্নীয় স্বজন আসতে দিবো না। তোকে পুলিশ দিবো।

ভুক্তভোগী জামাল তাৎক্ষনিক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কে রাতে বিষয়টি অবগত করলে তিনি বলেন কেন সে রাস্তা কাটবে জানগনের রাস্তা কাটার অনুমতি দিছে কে তাকে আমি বিষয়টি দেখতেছি বলে ফোনটি কেটে দেয়।

এর পর চেয়ারম্যান ও স্থানীয় ইউপি সদস্যর কোন প্রতিক্রিয়া না পেয়ে
পরের দিন সকালে ১৮/১১/২২ ইং তারিখে সকালে উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোহাম্মদ ইউনুছ কে বিষয়টি জানাইলে তিনি মেম্বার হারুন মাল কে ফোন দিয়ে রাস্তাটি বরাটের কথা বললেও তিনি কোন কর্নফাত করেননী।
ভুক্তভোগীর কোন অনুরোধের কথা না রাখায়। গণমাধ্যম কর্মীদের শরণাপন্ন হইলে ইউপি সদস্য কে অনুরোধ করে ফোনে জানালে ও প্রথমে রাজি না হওয়ায় পরে আবার ভেলুমিয়া ইউনিয়ন আ’লীগের সাধারন সম্পাদক লিটনের সাথে আমার সম্পর্ক আছে বলে অবগত করলে তিনি পরে প্রতিবেদক কে জানান জামালকে কামলা দিয়ে বরাট করে নিতে বলেন।
ভুক্তভোগী জামাল জানান রাস্তা টি আমাকে যখন ঠিক করতে অনুমতি তখন পরের দিন আনিমানিক ১৮ তারিখ দুপুর ১ টা বাজে।
আমি তখন কোন দিকে সামলাবো বিয়ের দাওয়াতের মেহমানধারি না রাস্তা ঠিক করার কাজ।
এই দৃশ্য আমার আত্নীয় স্বজন ও স্থানীয়রা দেখে অনেকেই আমার মেয়ের বিয়ের অনুষ্টান আসতে পারেন নাই।

তারা না আসায় আমার প্রায় এক দেড় লাখ টাকার মত খাবার নস্ট হয়েছে। আমি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, জেলা আ’লীগের নীতি নির্ধারক এবং প্রশাসনের কাছে এই ইউপি সদস্য হারুন মালের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি যেহেতু আর কোন মানুষের এই ইউনিয়নের জনগনের ক্ষতি না হয়।
তিনি আরো বলেন আমি যদি কোন অপরাধ করে থাকি তাহলে আমার বিচার করেন কিন্তু আপনি সরকারের একজন জনপ্রতিনিধি হয়ে সরকারের বিরোধী কোন কর্মকান্ড করে সাধারন মানুষের রাস্তা কেটে সড়ক পথচারীদের পথ বিছিন্ন করতে পারেন না। এই ক্ষমতা আপনাকে কে দিছে।

স্থানীয় অনেকে নাম প্রকাশ না করায় দুঃখ ও ক্ষোভ প্রকাশ করে এই ইউপি সদস্যর সরকার বিরোধী অনৈতিক কর্মকান্ড করে জনমনে ভোগান্তি করায় সড়কটি বিছিন্ন করায় তার বিচার দাবি করছেন এবং তাকে তার দায়িত্ব থেকে অপসারন করার জানিয়েছেন।

অভিযুক্ত ইউপি সদস্য মুঠো ফোন দিলে প্রথমে জানান আমি ব্রীজ করবো এখানে তাই কেটেছি। ২য় বারে তিনি জানান,রাতে আমাদের এলাকায় তাফসির হইছিল তার বাসায় গায়ে হলুদ অনুষ্ঠান চলছে তাকে বললাম আসতে বাজাতে তারা জোরে বাজিয়েছে তাই আমি রাতে রাস্তা কেটে দিয়েছি নিজেই।
এবং আমি রাত থেকে দিন পর্যান্ত রাস্তায় থাকবো
আমি ওর বিয়ে অনুষ্ঠানে কাউকে আসতে দিবো না কে আমাকে কি করবে আমি দেখে ছাড়বো।

ভেলুমিয়া ইউনিয়ন আ’লীগের সাধারন সম্পাদক আবুল খায়ের লিটন মাল বলেন আমাকে জামাল বিষয়টি জানালে আমি আমার চাচা ইউপি সদস্য হারুন মাল কে রাস্তাটি ভরাট করতে বলেছি। তবে রাস্তাটি কাটার কারনে আমি দুঃখ প্রকাশ করছি।

ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আব্দুস সালাম মাল ঘটনার সত্যেতা স্বীকার করে বলেন আমি ঘটনা শুনেছি। তবে বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। আমি এসে পুরো বিষয়টি দেখে এবং সব কিছু শুনে আমার ইউপি সদস্যর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবো সে এতো সাহস কোথায় পেল জনগনের রাস্তা কেটে জনদূর্ভোগ তৈরি করার।