ব্রেকিংঃ

ভোলায় ৬ মাসের অন্তঃসত্বা স্ত্রীর গর্ভপাত ঘটিয়ে নবজাতক সন্তান হত্যা,পাষন্ড স্বামী গ্রেফতার

বিল্লাল হোসেনঃ
ছয়মাসের অন্তঃসত্বা স্ত্রীর গর্ভপাত ঘটিয়ে নবজাতক সন্তান হত্যাকরলো পাষন্ডপিতা।তাকে এই নেক্কারজনক কাজে সহযোগীতা করেছেন ভোলার মেরী স্টপস ক্লিনিকের ম্যানেজার সহ অন্যান্যরা। এ ব্যাপারে পাষন্ডপিতা শরীফ ফরাজি, মেরীস্টপস ক্লিনিকের ম্যানেজার মাইনুদ্দনসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
সদর উপজেলার পূর্ব ইলিশা ইউনিয়ন ৬নং ওয়ার্ডের চর আনন্দ পাট-৩ এলাকায় এঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিয়ে মানবাধিকার ও আইন সহায়তা কেন্দ্রে ভোলার সহযোগিতায় সংস্থার আইন বিষয়ক উপদেষ্টা এডভোকেট শাহাদাৎ শাহীনের তত্বারধায়নে ভোলার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মোঙ্গলবার মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ভূক্তভোগী এবং মামরা সূত্রে জানাগেছে,চরআনন্দ পার্ট ৩ এলাকা মোঃ সিরাজ ফরাজীর ছেলে মোঃ শরীফ ফরাজির সাথে একই এলাকার নবম শ্রেনীর ছাত্রির সাথে ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তাদের মধ্যে প্রায়ই মোবাইল ফোনে ও সাক্ষাতে কথা বর্তা হইতো। শরিফ ফরাজি ওইছাত্রীকে বিয়ের প্রলোভন দেখাইয়া বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে একাধিক বার ধর্ষন করে। গত বছরের সর্বশেষ ২৭ অক্টোবরে রাত প্রায় সাড়ে তিনটায় ভূক্তভোগীর পিতা মাতা ও বড় ভাই বাড়িতে না থাকার সুযোগে শরিফ ফরাজি তাকে জোর পূর্বক ধর্ষন করে। পরবর্তীতে ওই ছাত্রী বিয়ে করতে বল্লে শরিফ ফরাজি নানা টালবাহানা করে ঘুরাইতে থাকে । এর মধ্যে ওই ছাত্রীর শরীরিক পরিবর্তন দেখাদিলে আল্টা সনোগ্রাম করে অন্তঃসত্বা হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হন তার মা।
স্থানীয় ভাবে কোন সমাধান না হওয়ায় গত বছরের ১৯ ডিসেম্বর ভূক্ত ভোগী বাদী হয়ে ভোলা সদর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর শরিফ ফরাজী ওইছাত্রিকে বিয়ে করে ঘর সংসার করতে রাজি হয়। কিন্তু আইনানুগ ভাবে বাদীনির বিয়ের অপ্রাপ্ত বয়স হওয়ায় রেজিস্টারী কাবিন করা সম্ভব না হওয়ায় তিনশত টাকার নন জুডিসিয়াল স্টাম্পে লিখিত চুক্তি নামায় বিবাহ হয়। পরবর্তিতে ওই ছাত্রী তার নানা বাড়িতে বেড়াইতে গেলে ২৭ জানুয়ারী সুকৌশলে ওই ছাত্রীকে তার নানা বাড়ি থেকে স্বামী শরিফ ফরাজী পিকনিকে নেওয়ার কথা বলে ভোলা উকিলপাড়াস্থ মেরিস্টপস ক্লিনিকে নিয়া যায়, সেখানে শরিফ ফরাজি তার বাবা ভাইয়ের পরামর্শে ওই ছাত্রীর অনুমতি না নিয়া মেরীস্টপস ক্লিনিকের ম্যানেজার মোঃ মাইনউদ্দিনের তত্ত্বাবধানে ওই ছাত্রীর গর্ভপাত করার জন্য তার যৌনাঙ্গে ইনজেকশন পুশ করে । এরপর শরিফ ফরাজী ভূক্তভোগীকে নিয়া তার নানা বাড়িতে ফিরিয়া দিতে গেলে ছাত্রীর পেটে তিব্র যন্ত্রনা শুরু হয়। যন্ত্রনায় ওই ছাত্রী মারাক্তক অসুস্থ্য হইয়া পরলে স্বজনরা তাকে ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।
হাসপাতালে ডাঃ সুরাইয়া ইয়াসনুরের তত্ত্বাবধানে ঐ দিন রাত ১০ টায় ওই ছাত্রী অস্বাভাবিক ভাবে কন্যা সন্তান প্রসব করে। মাত্র ১০ মিনিট পরে অস্বাভাবিক ভাবে প্রসবকৃত সন্তানটি অপরিপক্ক হওয়ায় মৃত্যুবরন করে।
এব্যাপারে মানবাধিকার ও আইন সহায়তা কেন্দ্রে ভোলার আইন বিষয়ক উপদেষ্টা এডভোকেট শাহাদাৎ শাহীনের সহযোগিতায় ওই ছাত্রীবাদি হয়ে ভোলার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মঙ্গলবার পাষন্ড শরীফ ফরাজী, মেরীস্টপস ক্লিনিক ম্যানেজার মাইনুদ্দিনসহ ৪জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেছেন।
পুলিশ মামলা প্রধান আসামী শরীফকে গ্রেফতার করেছে।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা দোষীদের দৃস্টান্ত মূলক শাস্তি দাবি করেছেন।

দুঃখিত! কপি/পেস্ট করা থেকে বিরত থাকুন।